রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিতর্কিত ও শাণিত পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি শয়তান বা ইবলিশের পতনের ইতিহাসের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনের তুলনা করেছেন। পোস্টের একপর্যায়ে তিনি 'মুজিবলিশ' শব্দটি ব্যবহার করেন, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সালাউদ্দিন আম্মার তার পোস্টে লেখেন, ইবলিশ দীর্ঘকাল ইবাদত করে ফেরেশতাদের সর্দার পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু যখন সে আল্লাহর আদেশে আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে, তখন তার পূর্বের সকল পুণ্য ও আমল ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত ইবলিশে পরিণত করেন। এখানে তার আগের কোনো ভালো কাজই তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের
রাজনৈতিক জীবনকে বিশ্লেষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "মুজিব সংগ্রামী ছিল, অনেক সংগ্রাম করেছে। বিনিময়ে ক্ষমতা পেয়েছে। পরে বাকশাল হয়েছে, প্রথম স্বৈরাচার হয়েছে—জনগণ বিচার করেছে।
আম্মার প্রশ্ন তোলেন, যেখানে আল্লাহ ইবলিশের অবাধ্যতার কারণে তার পূর্বের সকল সম্মান কেড়ে নিয়েছেন, সেখানে মুজিবের রাজনৈতিক পতন ও পরবর্তী কর্মকাণ্ডের পরও যারা তার প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা 'মায়াকান্না' দেখান, তাদের যুক্তি আসলে কী? তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এই মানুষগুলো কি তবে এটাই ভাবে যে—একটি সিজদাহ না দেওয়ার অপরাধ ক্ষমা করে ইবলিশকে ফেরেশতাদের সর্দারের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া উচিত?
পোস্টের শেষে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ও ইবলিশের নাম মিলিয়ে 'মুজিবলিশ' শব্দটি ব্যবহার করেন।
সালাউদ্দিন আম্মারের এই পোস্টটি ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে রাজনৈতিক ইতিহাসের কঠোর ও নির্ভীক বিশ্লেষণ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এই তুলনাকে অত্যন্ত চরমপন্থী ও বিতর্কিত বলে মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ শাসন পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরণের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।